আমিও একদিন ঘুমিয়ে পড়বো ঠিক; / তোমাদের সকল নিয়মের বাইরে- / তোমাদের সকল উপেক্ষা নস্যাৎ করে; / ক্লান্ত সন্ধ্যার মতো আমি একা মধ্যরাতের দিকে / হেঁটে চলে যাবো। / মিশে যাবো অন্তহীন অন্ধকারের সাথে।

আমিও একদিন ঘুমিয়ে পড়বো ঠিক; / তোমাদের সকল নিয়মের বাইরে- / তোমাদের সকল উপেক্ষা নস্যাৎ করে; / ক্লান্ত সন্ধ্যার মতো আমি একা মধ্যরাতের দিকে / হেঁটে চলে যাবো। / মিশে যাবো অন্তহীন অন্ধকারের সাথে।

উপন্যাস

সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার গল্প: পুতুলবাজি [পর্ব – ০৫]

গত সংখ্যার পর

মুনার ধারণা, বেশিরভাগ মানুষ তাকে ভুল বোঝে- বিশেষত কাছের মানুষরা; কাছের মানুষের সংখ্যা তার কম- এর মধ্যে অন্যতম রত্না আর নাদিয়া; নাদিয়া তার রুমমেট, রত্নার নিজেদের বাড়ি আদাবরে; এমএ চূড়ান্ত পরীক্ষার আর মাত্র তিন মাস; আজকাল রত্না প্রায়ই চলে আসে মুনা-নাদিয়ার কক্ষে, থেকে যায় রাতে; পড়াশোনার আগে-পরে তাদের সজোর আড্ডা চলতেই থাকে; মুনা লক্ষ্য করেছে- দুই বন্ধুর সঙ্গে তার মতের অমিল বেড়ে যাচ্ছে; তা বাড়তেই পারে, বন্ধুদের মধ্যে তর্ক হবে, এ স্বাভাবিক- কিন্তু মুনা আজকাল নিজেকে বোঝাতে পারছে না সম্ভবত, বন্ধুদের সঙ্গে অল্পতে বিবাদ বেধে যাচ্ছে; এটিই তাকে দুঃখ দেয় বেশি। এমএ পরীক্ষা আসন্ন, প্রত্যেকেরই বাড়ি থেকে যার যার কন্যার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা আছে; নাদিয়া ইতিমধ্যে সহপাঠী ইমতিয়াজকে নিজের জন্য চূড়ান্ত করেছে; -আর রত্না আছে ভিন্ন সমস্যায়; সে বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগের তার তিন বছরের জুনিয়র হিমেল নামে একজনকে ভালোবেসে ফেলেছে; তাকেই সে বিয়ে করবে- এখন কোন্ উপায়ে সে বাড়িতে এটি জানাবে, আড্ডায় ঘুরেফিরে এই প্রসঙ্গ উঠলে মুনা তাকে বলে, ‘তুই আগে ঠিক কর…তুই কতটা সিরিয়াস! তারপর বিয়ের প্রসঙ্গ!’

‘এর মানে কী? মুনা, এর মানে কী? প্রেমের ব্যাপারে আমি সিরিয়াস না!’ রত্না রেগে যায়।

‘সিরিয়াস না; বলি নাই। কতটা?- সেইটা বলছি। তিন মাস পরে দেখা যাবে, হিমেলরে তোর ভাল্লাগে না আর!’ মুনা বলে।

‘তুই জানলি কী করে? তুই প্রেমের ডিকশনারি হইছিস!’ রত্না ফুঁসতে থাকে, নাদিয়ার দিকে তাকায় সমর্থনের আশায়, নাদিয়া কোনপক্ষের দিকে না ঝুঁকে এ বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করে।

‘ডিকশনারি হইতে হবে কেন? ইতিহাসের ছাত্রী হলেই তো চলে। এতদিন সাবি্বর-সাবি্বর করলি; এখন আচমকা হিমেল-হিমেল করছিস। আবার সেটা পিচ্চি একটা ছেলে!’

‘খবরদার মুনা! মুখে যা আসবে, তাই বলবি না! পিচ্চি ছেলে মানে কী? কোথায় লেখা আছে- তিন বছরের জুনিয়র ছেলেকে বিয়ে করা যাবে না!’

‘বিয়ে করা যাবে না, বলি নাই। বলছি- তিন মাস পরে তুই হিমেলকে বিয়ে করতে চাইবি কিনা! সেটাই আমার প্রশ্নম্ন!’ মুনা হালকা স্বরে বলে; রত্নার রাগ বাড়তে থাকে, ‘আমি তো তাও নিজের পছন্দটা বলতে পারি! তুই তো লোকজনকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাস শুধু!’

মুনা অবাক হয়ে বলে, ‘আমি আবার কাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরালাম!’

‘আহা! ন্যাকা বাবুটা! কিচ্ছু বোঝে না যেন…মঞ্জু ভাইকে তুই ক’বছর ধরে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছিস! আমরা কিছু বুঝি না; না!’ রত্না ফোড়ন কাটার সুরে বলতে থাকে; নাদিয়া দেখে দুই বন্ধুর ঝগড়া বেড়েই চলে; সে বলে, ‘কী শুরু করলি তোরা! আচ্ছা, শোন… যাকে যার খুশি সে বিয়ে করবে; প্রেম করবে- এই নিয়ে এতো কথার কী আছে!

‘আমি কথা বললাম কই! মুনাই তো হিমেলকে পিচ্চি বললো! এটা সে কেমনে বলে? কেন সে আমাকে অপমান করে!’ এবার কাঁদতে শুরু করে রত্না। মুনা হালকা সুরেই কথা শুরু করেছিল, রত্না তাকে রীতিমতো ভুল বোঝে, এটা নতুন নয়। মুনার ধারণা, কেউই তাকে ঠিক বুঝতে পারে না; মুনা বলতে থাকে- ‘ আমি শুধু তোকে বোঝাতে চাইলাম, বিয়ের মতো একটা ব্যাপারে এতো হুট করে ডিসিশন নেয়া ঠিক না! আর তুই কী সব বলছিস?’

‘হুম। সবাই তো তোর মতো বছরের পর বছর লোকজনকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে! দুনিয়ায় মঞ্জু ভাইর মতো গাধা একটাই আছে!’

মুনা কথা বাড়ায় না; তবে তার মনটা হঠাৎ খুব খারাপ হয়ে যায়; একটা স্মিতহাস্য নিয়ে আলাপ শুরু করেছিল সে; একেবারে ঘন বিষাদে সে মুখ কালো করে রত্নার সামনে থেকে উঠে বারান্দায় চলে যায়, রত্না মুনার বিছানায় উল্টোদিকে পিঠ ফিরিয়ে চোখ বন্ধ করে, নাদিয়া তার বিছানায় নিঃশব্দ, সে সেদিনের পত্রিকার ১৯-এর পাতায় একটা ৮০ বছরের বৃদ্ধের অষ্টম বিয়ের খবর উৎসাহের সঙ্গে পড়তে থাকে।

হলে থাকার এই এক যন্ত্রণা, মুনা ভাবতে থাকে- একটু মন খারাপ হলে বা একা থাকতে ইচ্ছা করলে কোন উপায় নেই। একটা টিভি কক্ষ আছে, সেখানে রাত নাই দিন নাই তারস্বরে গান-বাজনা-মারপিট আর শ্বাশুড়ি-বউয়ের ঝগড়ার সিরিয়াল চলে; লাইব্রেরি একখানা আছে। সেটি সন্ধ্যা নামার একটু পরই বন্ধ হয়ে যায়; মুনার ভালো লাগে না, তার একা বসে থাকতে ইচ্ছা হয়; সে একতলার বারান্দা ধরে এগিয়ে দোতলায় উঠে আসে, এখানে অন্তত রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকলে খোলা আকাশ দেখা যায়, অন্ধকারমুখ আকাশের বুকজুড়ে ছড়ানো তারা, মুনা ছড়ানো তারাদের দিকে তাকিয়ে থাকে আর তার মন খারাপ বাড়তে থাকে। রত্না এমন গুরুতর কোন কথা বলেনি, বন্ধুরা মজা করে এমন কত কথাই তো বলে- মুনা জানে। তারপরও তার কষ্ট বোধ হয়, আর সে বোঝে না, কেন তার এতোটা অবসন্ন লাগছে! মুনা দোতলা থেকে তিনতলায় যায়, তিনতলা থেকে ছাদে ওঠার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে; রাত ১টার মতো বাজে- এতো রাতে ছাদে যাওয়ার মতো সাহস তার হয় না; সে মাথা নিচু করে সিঁড়িতে বসে পড়ে। কালোর মধ্যে নীল নীল ফুল পুরো হাতা জামা আর সাদা সালোয়ারের খালি পায়ের মুনা বিষণ্ন মুখে তার ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখে; হাকিম চত্বর থেকে পিএটিসিতে ফেরার পরদিন থেকেই ফয়সাল ম্যাসেঞ্জারে মুনার সাথে কথা বলতে শুরু করেছে; প্রথম কয়েক দিন ‘কেমন আছো’, ‘ভালো আছো’র মতো ভদ্রতা গোছের কথা বললেও সে দিনকয়েক হলো দিনের মধ্যে বারকয়েক খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে; তার কথাবার্তা বেশ অন্তরঙ্গও হয়ে উঠছে; মুনা দ্যাখে- ফয়সালের কাছ থেকে পরপর কয়েকটি অপঠিত মেসেজ এসে তার পড়ার অপেক্ষায় স্থির হয়ে আছে- ‘এতো রাতেও আছো ম্যানেঞ্জারে? তার মানে তুমি জেগে? কী করছো? পড়াশোনা? …’

মুনা জানে, এভাবেই একটু একটু করে কথাবার্তা এগোতে থাকে পুরুষদের; যেন ভাজা মাছটিও উল্টাতে পারে না; একটু কথা বলো- অমনি আসল চেহারাটা বের হয়ে আসবে! সেই কবে থেকে শুরু মুনার পুরুষজনিত তিক্ত-জঘন্য সব অভিজ্ঞতা- পঞ্চম শ্রেণি, না আরও কম চতুর্থ শ্রেণি-কত বয়স তখন তার ৯/১০- সন্ধ্যায় বাসায় পড়াতে আসত অংকের শিক্ষক হাফিজুর রহমান; মা হয়তো পাশের বাসায় গেছেন তখন, বাবা তো বাসাই ফেরেননি; ভাইয়া কোচিং ক্লাসে হয়তো, বাসায় এক গৃহকর্মী ছাড়া কেউ নেই; সেই হাফিজুর রহমান বাসায় কেউ না থাকলেই ৯ বছরের মুনার দিকে অন্যরকম স্বরে কথা বলতে শুরু করে …! মুনার মনটা অবশ হয়ে যেতে থাকে; ফয়সালের মেসেজের সাথে তার ৯ বছরের জঘন্য অভিজ্ঞতার কোন সম্পর্ক নেই; তারপরও কেন আচমকা তা তার মনে আসে; মুনা জানে না। সে ফয়সালকে উত্তর লিখতে শুরু করে, ‘না। পড়াশোনা করি না। বসে আছি।’

‘তাহলে তো তুমি চাইলে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি আমরা।’

‘রাত ১টায় কথা বললে আপনি তো আবার আমাকে বাজে বা সস্তা মেয়ে মনে করতে পারেন!’

‘ছি! ছি! তুমি আমাকে এভাবে মেনশন করছো? আই অ্যাম রিয়ালি অ্যাস্টনিশ্ড!’

‘অ্যাস্টনিশ্ড হওয়ার কিছু নাই। পুরুষরা এমনই। নিজের মা আর বোন ছাড়া সবাইকে বাজারের মেয়ে মনে করে!’ মুনার এই কথায় সত্যিকার অর্থেই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে ওপ্রান্তে ফয়সাল; পিএটিসিতে তার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ চলছে; প্রথম ২০ জনের মধ্যে থাকতে পারলে শ্রীলংকা ট্যুরে যাওয়ার সুযোগ পাবে সে- শ্রীলংকা যাওয়ার জন্যে নয় অবশ্য, ফয়সালের অভ্যাস যখন যা করে, তখন তা-ই সে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা করে; তাই পিএটিসিতে সে জোর পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে; পড়ার ফাঁকে সে মেসেঞ্জারে মুনাকে মেসেজ দিয়েছিল; সেই কথোপকথনের এক পর্যায়ে মুনার এই কথায় ফয়সাল রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে পড়ে; নিজেকে সামলে নিয়ে ফয়সাল মেসেঞ্জারে লেখে, ‘সবাই যে যার অভিজ্ঞতায় চারপাশকে মাপে! পুরুষদের নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতা সম্ভবত খুব খারাপ!’

‘শুধু আমার কেন? পুরুষদের নিয়ে যে কোন মেয়েরই অভিজ্ঞতা খুব খারাপ! কেউ বলে, অনেকে চেপে যায়!’

‘এটা কিন্তু একটু বেশিই বলছো তুমি! সব পুরুষই খারাপ- এটা কেমন কথা?’

‘আপনি নিজে পুরুষ। মেয়েদের অপমানের ব্যাপারটা আপনি বুঝবেন না; তাই এতো মিষ্টি করে বলছেন। একটু আগে আমার হাফিজুর রহমান টিচারের কথা মনে হচ্ছিল! শুনবেন তার কথা? আমার বয়স তখন ৯!’

‘কেন শুনবো না? বলো।’

‘সপ্তাহে ৫ দিন সন্ধ্যায় আসত বাসায়। আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। বাবা-মা বাসায় না থাকলে সে টেবিলের নিচ দিয়ে আমার কোমর ছোঁয়ার চেষ্টা করত। আমি কিছুই বুঝতে পারতাম না। একদিন দেখি লোকটা টেবিলের নিচ দিয়ে আমার প্যান্টের ভেতরে হাত দিতে চাইছে!’ লিখতে লিখতে চোখের জল উপচে পড়তে চায় মুনার; সে বোঝে না- কেন স্বল্পপরিচিত ফয়সালকে সে নিজের মধ্যে এতদিন চেপে রাখা অপমান আর গ্গ্নানির কথাটা বলে উঠলো! জানে না; জানে না মুনা।

ফয়সাল বুঝে উঠতে পারে না; মুনার কথার উত্তরে সে কী বলতে পারে বা তার কী কথা বলা উচিত; ফয়সাল বুঝতে পারে, এই মেয়ের সঙ্গত- তীব্র অপমানদগ্ধতার বোধ তার মধ্যেও সঞ্চার হয়ে যেতে থাকে। মানুষ কেন বোধশূন্য পশু হয় প্রায়ই- আর ফয়সাল ভাবে, মনকে শান্ত করার জন্যে মুনার ভেতরকার রাগ-ক্ষোভ যত বের করে আনা যায় তত মঙ্গল; ফয়সাল বলে- ‘আমি বুঝতে পারছি। আমাদের সকলকেই এ’ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়!’

‘সকলকে বলছেন কেন? মেয়েদের যেতে হয়। প্রত্যেক মেয়েকে নানাভাবে ফেস করতে হয়। তাদের পদে পদে বুঝিয়ে দেয়া হয়- তুমি মেয়ে!’

‘তুমি ওই ঘটনা কীভাবে ফেস করলে? মাকে বললে? বাবাকে?’

‘না। বাবা-মাকে বলার সাহস পাই নাই। ৯ বছরের একটা মেয়ে! কতটুকুই বা বুঝি! আমাদের বাসায় কাজের একটা মেয়ে ছিল; গ্রাম থেকে আনা; সালমা নাম, আমার ২/১ বছরের বড় হবে। কিন্তু গ্রামের মেয়ে, আমার চেয়ে অনেক বেশি বোঝে। হাফিজ স্যার পড়াতে আসলে সালমা এর পর থেকে আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করতো। স্যারও বুঝছে। আর কিছু ঘটে নাই।’

‘স্যরি। আমি খুবই দুঃখিত, তোমার এ’রকম একটা ত্রুক্রয়েল মেমোরি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। ‘

‘নট অনলি ত্রুক্রয়েল; অলসো ভাল্গার…।’

‘অফকোর্স! অফকোর্স! আমি স্যরি।’

‘স্যরি স্যরি করছেন কেন? আপনি অপরাধ করছেন নাকি! মনে হইলো তাই বললাম!…আপনি তো পুরুষ; রাত দুইটায় একটি মেয়ের মেসেঞ্জার ওপেন দেখে কী ভাবতে পারেন…সেই থেকে কথা উঠলো। বললাম। নাথিং সিরিয়াস।’

‘আমি বুঝতে পারছি, আমি বুঝতে পারছি। আমি আজ বিদায় নিই। স্যরি, এগেইন।’

‘জি যান। গুড বাই’ বলে ফয়সালের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মুনা দেখে ফেসবুকে আরিফ হোসেন মঞ্জুর নামের পাশে সবুজ বাতি জ্বলে; মুনা নক করে মঞ্জুকে, ‘জনাব, যে এতো রাতে সবুজ হয়ে জ্বলছেন! ঘটনা কী?’

মঞ্জু তখন বারিধারায় আপিসের ডরমিটরিতে নিজের কক্ষের বিছানায় সটান শুয়ে, আজই সে উঠে এসেছে এখানে; ৭ তলা অ্যাপার্টমেন্ট হাউজে পাশাপাশি দুই ফ্ল্যাট- ৫টি করে কক্ষ, একেক কক্ষে ২ জন করে; মঞ্জুর রুমমেটের নাম বোরহান উদ্দিন জসীম; খান অ্যাসোাসিয়েটসের বিপণন নির্বাহী, মঞ্জুর মতোই ২৭/২৮ বছর বয়সী, সারাদিন দৌড়ঝাঁপ করে গভীর ঘুমে নিমজ্জিত; টুক করে শব্দ হয় মেসেঞ্জারে; মঞ্জু দ্যাখে, মুনা তাকে লিখেছে, ‘জনাব, যে এতো রাতে সবুজ হয়ে জ্বলছেন! ঘটনা কী?’

‘আমার ফেসবুক মেসেঞ্জার টুয়েনটি ফোর আওয়ার্স এখন থেকে খোলা পাবে মুনা। এইটা চাকরির অংশ!’ মঞ্জু মোবাইল ফোন মেসেঞ্জারে লিখে উত্তর দেয়।

‘কী বিচিত্র চাকরি আপনার! চবি্বশ ঘণ্টা ধরে ফেসবুক খুলে বসে থাকবেন! ঘুমাবেন কখন?’

‘এর মধ্যেই ঘুমিয়ে নিতে হবে। ডরমিটরিতে তো…চবি্বশ ঘণ্টা অনডিউটি।’

‘ডরমিটরি মানে! আপনি কোথায়? জিগাতলার বাসায় আপনি নাই?’

মঞ্জু চুপ করে থাকে, ভেবেছিল বারিধারায় এসে গুছিয়ে নিয়ে মুনাকে গিয়ে চমকে দেবে; তো ক’দিন ধরে এটা-ওটা গুছিয়ে উঠতেই আর মুনার সঙ্গে দেখা করা হয়নি তার। বলাও হয়নি বিশদ- শুধু জানিয়েছে, ‘চাকরি পেয়েছি মুনা। দেখা করে ডিটেইল বলছি।’ তারপর ৫/৬ দিন কোন্ ফাঁকে চলে গেল; নাহ্, কাজটা একেবারে ঠিক হয়নি। কতদিন মুনাকে দেখি না! আচ্ছা, কবে যেন মুনার সাথে শেষ দেখা হলো! মনে মনে দিন গুনে বের করার চেষ্টা করে মঞ্জু!

[ক্রমশ]

One thought on “সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার গল্প: পুতুলবাজি [পর্ব – ০৫]

  • আমি কি জানতে পারি “পুতুলবাজি” গল্প আপনার কোন বই তে পাওয়া যাবে?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *