আমিও একদিন ঘুমিয়ে পড়বো ঠিক; / তোমাদের সকল নিয়মের বাইরে- / তোমাদের সকল উপেক্ষা নস্যাৎ করে; / ক্লান্ত সন্ধ্যার মতো আমি একা মধ্যরাতের দিকে / হেঁটে চলে যাবো। / মিশে যাবো অন্তহীন অন্ধকারের সাথে।

আমিও একদিন ঘুমিয়ে পড়বো ঠিক; / তোমাদের সকল নিয়মের বাইরে- / তোমাদের সকল উপেক্ষা নস্যাৎ করে; / ক্লান্ত সন্ধ্যার মতো আমি একা মধ্যরাতের দিকে / হেঁটে চলে যাবো। / মিশে যাবো অন্তহীন অন্ধকারের সাথে।

উপন্যাস

সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার গল্প: পুতুলবাজি [পর্ব – ০৩]

গত সংখ্যার পর

ভোরেই যদি মেজাজ খারাপ হয়ে যায়; তো মুনার সারাদিন ভালো যায় না- এটা সে বিভিন্ন সময় রীতিমতো লক্ষ্য করে দেখেছে; আজ আবার তার প্রমাণ পায় সে, দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে যায়; বেলা দেড়টায় হাকিম চত্বর থেকে রোকেয়া হলে কক্ষে ফিরে সেই যে সোজা বিছানায় নিজেকে নিক্ষেপ করে মুনা; তার বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করে না। বাবা-মাকে নিয়ে আর পারা যায় না; পৃথিবী কোথায় এগিয়ে গেছে; তারা আছেন আঠার শতকে! ভোরে স্নানে গিয়ে জলের ক্ষীণধারা দেখে মুনার যে মেজাজ খারাপের সূচনা; বেলা ১০টায় বাবার ফোনে তা চরমে পেঁৗছে- ‘মাগো; তোমার ফুপা ওই ছেলেকে তোমার ডিপার্টমেন্টের ঠিকানা দিছেন। তুমি একটু আদব-কায়দার সাথে কথা বলো!’

আকাশ থেকে পড়ে মুনা; সে ফুপাকে তো বটেই, বাবা-মাকে অনেকভাবে বুঝিয়েছে- ডিপার্টমেন্টে এ’ভাবে মেয়ে দেখতে আসার রেওয়াজ বহু আগে থেকে আর নেই; যদি কোন ছেলের সঙ্গে তার কথা বলতেই হয়; সেটা এমএ চূড়ান্ত পরীক্ষার পরে এবং অবশ্যই সেই দেখা হবে কোন রেস্তোরাঁয়। হলের সামনে বা ডিপার্টমেন্টে তো নয়ই; কিন্তু কে শোনে কার কথা! বাবা সম্ভাব্য পাত্রকে আজই পাঠানোর ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে কন্যাকে ফোন করেছেন!

‘তোমরা কি আমার মানসম্মান কিছুই রাখবে না? আজকে… ঢাকা ইউনিভার্সিটির হিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের বারান্দায় এক ছাত্রীকে দেখতে আসবে এক ম্যাজিস্ট্রেট পাত্র! এ’সবের মানে কী! ওই ম্যাজিস্ট্রেটের আক্কেল-বুদ্ধি কিচ্ছু নাই, নাকি!…সে তো ইউনিভার্সিটিতেই পড়ছে!’

‘আহারে…দেখতে আসবে কে বললো তোমাকে? সাগরের বন্ধু ফয়সাল। সাগরের ফেসবুকে তোমার ছবি দেখছে ছেলে! একটু পরিচিত হতে চায়।’ মুনার ফুপা ইদ্রিছ আলী সাহেবের পুত্র সাগর; সে-ও বিসিএস দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট; তারই বন্ধু এই ফয়সাল।

বাবা আর কথা না বাড়িয়ে ফোন তুলে দেন মুনার মায়ের হাতে-

‘একটা ছেলের সাথে কথা বলা যাবে না- এমন আইন কোন্ দুনিয়ায় আছে, মুনা?’ মায়ের কণ্ঠে রীতিমতো ঝাঁঝ; মুনার বাবা নুরুল হাসান সাহেব খুলনার ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিনিয়র ম্যানেজার- স্বভাবে শান্ত; স্থানীয় জিলা স্কুলের বাংলার শিক্ষিকা মুনার মা সাকিনা হাসান রাগী স্বভাবের; বলতে থাকেন- ‘তুমি কি এই দুনিয়ায় কোন ছেলের সাথে এর আগে কোনদিন কথা বলো নাই, নাকি? এখন একটা ছেলের সাথে কথা বলতে তোমার এতো আপত্তি কেন?’

‘আমি কথা বলবো না- তাতো বলি নাই। পরীক্ষার পরে বলবো।’

‘সবকিছু একসাথে হয় না। ছেলেটা ম্যাজিস্ট্রেট; বাবা রিটায়ার্ড জজ- খুলনারই মানুষ; সব মিলায়ে এমন পাওয়া যাবে পরীক্ষার পরে? আর অনুষ্ঠান আমরা পরীক্ষার পরেই করবো। এখন শুধু কথা ফাইনাল হবে!’ মা জানেন তার মেয়েটা জেদী, তবে ভীষণ লক্ষ্মী- বুঝিয়ে বললেই হবে, মেয়েকে সময়মতো সুপাত্রে পাত্রস্থ না করা পর্যন্ত বাবা-মায়ের শান্তি নেই; আর যা দিনকাল পড়েছে, সহকর্মীদের কাছ থেকে এর ওর ছেলে-মেয়ের কথা শুনে তো তার রীতিমতো ভয় জাগে; সে তুলনায়, আল্লার রহমতে তার দুই ছেলে-মেয়েই বাবা-মার কথার বাইরে যায় না, এটা তার বড় শান্তি; বড় ছেলেকেও নিজেদের পছন্দে বিয়ে দিয়েছেন, বুয়েট থেকে পাস করা ছেলে; এখন বউ নিয়ে আছে নিউজিল্যান্ডে।

‘কথা বলছো না কেন মুনা? ফয়সাল গিয়ে পরিচিত হয়ে চলে যাবে, পরে না হয় একদিন কোন রেস্টুরেন্টে বসো তোমরা। অসুবিধা কী?’ মা বলতে থাকেন।

মুনা কথা বলে না।

‘ফয়সাল আজই যেতে চাইছে তোমার ডিপার্টমেন্টে! আমরা কী করে না করি?’

‘আচ্ছা, ঠিকাছে’ বলা ছাড়া মুনার আর কোন উপায় থাকে না তখন। আর বেলা ১২টা তখন বাজে, মুনার ফোনে অপরিচিত নম্বরের ফোন :’আমি ফয়সাল। মোজাম্মেল আংকেল আপনার নাম্বারটি দিয়েছেন; আমি টিএসসি এলাকায় আছি। এখন আসবো আপনার ডিপার্টমেন্টে?’

ফয়সালের কণ্ঠস্বর মার্জিত, বেশ গোছানো; এমন এক ছেলে কী করে এতো বোকা ও সেকেলে হয়; মুনা ভেবে পায় না। সে শান্ত স্বরে বলে, ‘ডিপার্টমেন্টে এতো লোকের ভিড়ে কথা বলাটা সমস্যা হবে!’

‘জি, আমিও তো তাই বলছিলাম। কিন্ত আংকেল বললেন, যেহেতু আমি আজ আসছি এখানে এক কাজে; আপনার সাথে যেন দেখা করে যাই।’

‘অ আচ্ছা। আপনার কাজ কোথায়?’ মুনা জিজ্ঞেস করে।

‘সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে মার্কশিট তুলতে আসছিলাম। কাজ শেষ। আসবো?’

এতো সহজভাবে ফয়সাল কথা বলে যে, মুনা তাকে বলে; ‘আসুন।’

মুনা আর ফয়সালের দেখা হয় হাকিম চত্বরে; মুনাই তাকে সেখানে আসতে বলে; বিভাগের রত্না বা রুমমেট নাদিয়া যদি ঘুণাক্ষরে টের পায় ফয়সাল নামের এই ছেলের সাথে কোন উদ্দেশ্যে কথা বলছে মুনা- আর রক্ষা নাই; তারা যথাক্রমে, মুনার ধারণা_ বিবিসি ও সিএনএন-ধারাভাষ্য ও ব্যাখ্যাসমেত এই খবর তারা অচিরে রাষ্ট্র করবে দিকে দিকে, মুনার স্বাভাবিক চলাফেরা কষ্টকর হয়ে উঠবে। সে তাই ফয়সালকে ডাকে হাকিম চত্বরে।

টিএসসির উল্টোদিকে হাকিম চত্বরে ছড়ানো মাঠের এক পাশে ইটের অসমাপ্ত আধো-দেয়াল; বসা যায় কোনমতে, মুনা বন্ধুবান্ধবসহ বসে এখানে প্রায়ই; মুনা সরাসরি ফয়সালকে বলে- ‘আপনার যে ধোপদুরস্ত কাপড়-চোপড়, বসতে পারবেন ইটের উপর!’

‘কেন না! কেন না!’ বলে ইটের উপরেই বসে ফয়সাল; সাগরের ফেসবুকে প্রথম দেখে সে মুনার ছবি; ছবির মেয়েটির অসাধারণ চোখ আর ঝকঝকে সুন্দর হাসিতে ফয়সালের চোখ আটকে যায়; সে সাগরের কাছে তার ফুপাতো বোন মুনা সম্পর্কে জানতে শুরু করে; মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে কিনা- এই ছিল তার জানার প্রধান বিষয়। না, মুনার বিয়ে ঠিক হয়নি- এটি জেনে সে পরবর্তীতে এগোতে থাকে ও মুনার সামনে পেঁৗছে; আর ফয়সালের যেটি সবচেয়ে ভালো লাগে- ছবির চেয়ে মুনা অনেক বেশি সুন্দর; আর সবচেয়ে বড় কথা- এই মেয়ে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত আর অসাধারণ বাকপটু- বিদ্যুৎ বেগে সে কথা বলে; অপ্রয়োজনীয় ব্রীড়া-সংকোচ বিন্দুমাত্র নেই, ফয়সালের মুগ্ধতা বাড়তেই থাকে।

‘হ্যাঁ, বলেন শুনি। আপনি কী জানতে চাইছেন আমার কাছ থেকে?’ মুনা জিজ্ঞেস করে ফয়সালকে।

বিব্রত হয় ফয়সাল, ‘না, না’ করে ওঠে, আর বলে, ‘কী আর জানতে চাইবো? আংকেল-আন্টির সাথে কথা হয়েছে। আমার মা-বাবাও এগ্রিড। পারিবারিক প্রপোজাল যাবে; আমি তোমার সাথে ইন্ট্রোডিউস হতে এসেছি।’

‘এক নম্বর পয়েন্ট। আমি আপনাকে আপনি বলে ডাকছি-সৌজন্যবশত। আপনারও তাই ডাকা উচিত!…আপনি তা করছেন না; তার মানে আপনি মেইলসভিনিস্ট। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার লোক আমার খুবই অপছন্দ।’ মুনা বলে।

‘আই এগ্রিড! আই এগ্রিড! …বিলিভ মি…আমি ঠিক এভাবে তোমাকে…মানে আপনাকে তুমি বলি নাই। আসলে…হয়েছে কি!’

‘না। ঠিক আছে। একবার যখন ডেকে ফেলেছেন; ডাকতে পারেন। তবে দুনিয়াটা তো অনেক আগায় গেছে… না!…আপনি নিয়ানডারথাল যুগে বাস করছেন…দেখে অবাক হইছি!’

‘স্যরি। তোমার…মানে আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না। নিয়ানডারথাল হবে কেন…!’

‘সেই প্রশ্নের উত্তর আপনি নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করবেন…! আপনি একজনকে বিয়ে করতে চান; তার সাথে কথা বলার আগে আপনি তার বাবা-মার সাথে কথা বলছেন! আপনার মানসিকতা তো পুরোটাই পুরুষতান্ত্রিক!’

‘আপনি যেভাবে দেখছেন ব্যাপারটা সে রকম নয়…।’

‘সামনে আমার পরীক্ষা। এ ব্যাপারটি জেনেও আপনি আমাকে বিরক্ত করতে এসেছেন!’

ফয়সাল বুঝতে পারে না; এই রাগী মেয়েটির সামনে সে কীভাবে পরিষ্কার করে কথা বলবে; কিছু কথা বললেই মেয়েটি বুঝতে পারতো-সে যা ভাবছে, তা একেবারেই ঠিক নয়; কিন্তু এতোটা রেগে ওঠা মানুষের সামনে গুছিয়ে কথা বলাও মুশকিল; অবশ্য রেগে ওঠায় মুনাকে আরও সুন্দর লাগে; ফয়সাল ভাবে, কেমন বিদ্যুৎ আভা বেরোয় সুন্দর চোখ দুটি থেকে, সে বলতে থাকে- ‘আচ্ছা, আচ্ছা। এতো রেগে যাওয়ার কোন কারণ নেই। আমি তো চোর-ডাকাত নই। একটা সাধারণ মানুষ।…এর মধ্যে যেটা হয়েছে, তোমার ছবি দেখে তোমাকে খুব ভালো লেগে গেছে!…এখন সামনাসামনি দেখে আরও ভালো লাগলো।…বাকিটা তোমার হাতে!’

‘বাংলা সিনেমাও তা আপনার কাছে ফেইল হয়ে যাবে!…’ হাসিমুখেই বলে মুনা, ‘ সামনাসামনি আমি যা বলছি আপনাকে; তারপরও আমাকে আপনার ভালো লাগছে! অদ্ভুততো!’

‘আসলেই অদ্ভুত। তোমাকে আমার খুবই ভালো লাগছে।…আর তোমার আপত্তি না থাকলে একটা রেস্টুরেন্টে আমরা বসতে পারি। পিএটিসিতে ট্রেনিংয়ে আসছি। তুমি টাইম দিলে আমি চলে আসবো।’

মুনা চুপ করে থাকে। ফয়সাল আবার বলে, ‘আমি যদি নিজেকে গুছিয়ে বলতে পারি, দেখবে তোমার ধারণাগুলো ঠিক নয়। অন্তত এ কারণেও খুব শিগগিরই তুমি টাইম দিলে, খুব খুশি হবো। ‘

‘ আচ্ছা। একদিন কথা বলবো আমরা।’ বলে মুনা আর কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে হলে নিজের কক্ষে চলে আসে; সোজা বিছানায় নিজেকে নিক্ষেপ করে; তার ভালো বোধ হয় না, ফয়সালকে যথেষ্ট বুদ্ধিমান বলেই তো মনে হয়; কিন্তু এভাবে পাত্রী দেখে বিয়ে করা- এ কেমন ছেলেরে বাবা! এই যুগে? আসলেই এরা নিয়ানডারথাল যুগের মানুষ, হোমো স্যাপিয়েন্সের আগের পর্ব; ভাবতে ভাবতে মুনা ফোন করে মঞ্জুকে- ‘জনাব …যে উধাও হয়ে গেলেন! বিষয় কী?’

‘আর বলো না! মিলনিয়ারের প্রজেক্ট নিয়া হিমশিম খাচ্ছি। আক্ষরিক অর্থেই হিমশিম। আচ্ছা, মুনা, হিমশিমের ইংরেজি কী?’

‘আপনার মাথা। প্রজেক্ট মানে কী? কী করছেন আপনি?’

‘হুমহু….আইডিয়া! আইডিয়া জেনারেট করছি। বুঝলে মুনা; আইডিয়া জগৎ চালায়। অর্থ নয়, ক্ষমতা নয়; আইডিয়া! আইডিয়া রুলস দ্য ওয়ার্ল্ড!…জাস্ট… এখন থেকে তিন ঘণ্টা আইমিন থ্রি আউয়ার্স লেটর…আই সাবমিট সাম অফ মাই আইডিয়াজ টু হিজ এক্সিলেন্সি মিস্টার….’ কথা শেষ করতে দেয় না মুনা-‘ কী আবোল-তাবোল বকছেন? কী হইছে আপনার? ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারেও তো দেখি না কয়েক দিন!’

‘আমি বিজি মুনা। জালে বল লাগলো বলে! এইবার আমাকে আটকানো মুশকিল!…জাস্ট ব্যানানা কিক দেব মেসির মতো!’

‘ধ্যাৎ’ বলে বিরক্তিতে ফোন রাখে মুনা; আর ওদিকে মঞ্জু তখন কাজ শেষের প্রশান্তিতে নিজেই নিজেকে পিঠ চাপড়ে দেবার অবস্থায় উদ্বেলিত; জিগাতলার সাবলেট কক্ষে বসে সে কম্পিউটার কম্পোজের শেষ পর্যায়ে; প্রিন্টার নাই তার- কম্পোজের পর পর গুলশান যাবার পথে সাদিক ভাইর আপিসে আইডিয়াপত্র প্রিন্ট করে তারপর সোজা চলে যাবে মিস্টার আইআরখানের কাছে; ‘এসেছি স্যার- এবার ফেরাও মোরে’…হাহাহা…মনে মনে হাসে মঞ্জু।

মুনা খুবই আনপ্রেডিক্টেবল- আচ্ছা, আনপ্রেডিক্টেবল-এর বাংলা কি?- মঞ্জু ভাবতে থাকে আর কি-বোর্ডে তার আঙুল দ্রুতলয়ে চলে; বাইরে কঠিন আবরণ নিয়ে থাকলেও, মঞ্জু জানে- মুনা আসলে অসম্ভব কোমল! নিজের জন্যে নয়; মুনার জন্যেই এখন মঞ্জুর একটা স্থায়ী চাকরি ভীষণ জরুরি…পরীক্ষার পর মুনার বাবা-মা মেয়েকে আসলেই খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে অস্থির হবেন; মঞ্জু দ্রুত কি-বোর্ডে আঙুল চালাতে থাকে; দেখে- কম্পিউটার স্ক্রিনের নিজের দিকে অনলাইন টুলস-এ ‘শারমিন হাসান মুনা ম্যাসেজড…’ বলে ছোট্ট বারটি লাফাতে থাকে; মঞ্জু তাতে ক্লিক করে; ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মুনা তাকে লিখেছে-‘খুব জরুরি দরকার। আজ সন্ধ্যায় একটু আসেন হলগেটে।’

‘আরে পাগল নাকি! আজ মিস্টার আইআরখানের কাছে আইডিয়া সাবমিট করছি সন্ধ্যায়।..উইল গেট এ জব। এন্ড দেন আই উইল কল ইউ।’ মঞ্জু ম্যাসেঞ্জারে উত্তর লিখে পাঠায়।

‘বিশাল কনফিডেন্ট যে আপনি!…গেলেই আই আর আপনাকে চাকরি দিয়ে দেবে…তা এ্যাদ্দিন কী করলেন? একটাও আইআর-এর দেখা পাইলেন না!’ মুনা চ্যাটবক্সে লিখে পাঠায়।

‘আরে! আমি যে রকম…সে ধরনের একটা কাজ তো পেতে হবে!….আমার ধরনের সঙ্গে মিলতে হবে আমার কাজকে!’

‘তা আপনার ধরনটা কী রকম বলে আপনি নিজে মনে করেন, একটু শুনি!’

‘মানে… ধরো নানারকম আইডিয়া করা। সেগুলো প্রেজেন্টেবল ও প্রফিটেবল করে তোলা! এক-দুই টাকার নয়, কোটি কোটি টাকার প্রফিট!…আসলে আমার বুদ্ধি তো সাধারণদের তুলনায় অনেক বেশি। আমার মূল কাজ হতে পারে…এক্সক্লুসিভ আইডিয়া জেনারেট করা।’

মঞ্জুর কথা শুনে মুনা হতভম্ব হয়ে তার মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে; একটা মানুষ নিজে বলছে- তার বুদ্ধি সাধারণের তুলনায় বেশি, সে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করার মতো বুদ্ধির জোগান দিতে পারে- সে কি আসলে সুস্থ! মঞ্জুর কথাবার্তায় অধিকাংশ সময় মুনা বিভ্রান্ত হয়; কী যে করছে মঞ্জু, সেই-ই জানে, কয়েক দিন পরপর এই বুদ্ধি ওই বুদ্ধি বের করে আর বলতে থাকে, ‘বুঝলে মুনা, এবার জালে বল জড়ালো বলে…কয়টা চাকরি চাই তোমার!’

ম্যাসেঞ্জারের অন্য প্রান্তে মঞ্জু ‘আনন্দ আশ্রম’কে জনপ্রিয় করে তোলার আইডিয়াপত্র শেষ করে তৃপ্তির হাসে হাসে; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আরেকবার পড়ে নেয়- চলবে, চলে যাবে….মিস্টার আইআরখানের সাধ্য নাই এই আইডিয়াপত্র ফেলে দেয়!

[ক্রমশ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *